পশ্চিমা দেশগুলোয় হ্যালোইন উদযাপনের তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে বেশ আগে। এ উৎসবে অপরিহার্য অনুষঙ্গ হিসেবে পরিচিত খোদাই করা কুমড়ার লণ্ঠন। সাধারণত বিশালাকারের কমলা রঙের পাকা কুমড়া কেটে ভীতিকর অবয়ব তৈরি করা হয়, ভেতরে জ্বালানো হয় বাতি। কিন্তু এবারের হ্যালোইন সামনে রেখে কমলা রঙের কুমড়া পাচ্ছেন না যুক্তরাজ্যের বাসিন্দারা। বাজারে যেসব কুমড়া মিলছে, সেগুলোর প্রায় সবই সবুজ রঙের।
বাজারসংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূলত প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সময়মতো কুমড়ার আবাদ করা যায়নি। এ কারণে খেতের সব কুমড়া এখনো সবুজই আছে; পুরোপুরি পাকেনি।
ব্রিটিশ সুপারমার্কেট জায়ান্ট আসডা তাদের কুমড়ার পাশে ক্রেতাদের উদ্দেশে লিখে রেখেছে, ‘আমার রঙ কিছুটা সবুজ থাকলেও চিন্তা করবেন না। ঘরে নিয়ে রেখে দিলে আমি পেকে কমলা রঙা হয়ে যাব।’ উল্টোদিকে আসডার ওয়েবসাইটে অনেক ক্রেতা অভিযোগ করেছেন, এবারের কুমড়া তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
কৃষিপণ্য উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান বারফুটসের প্রধান নির্বাহী জুলিয়ান মার্কস বলেন, ‘এবারের বসন্তে তাপমাত্রা ছিল তুলনামূলক কম। বাতাসের আর্দ্রতাও ছিল বেশি। ফলে অনেক কৃষক প্রথম চেষ্টায় কুমড়ার বীজ বপন করতে পারেননি। আবহাওয়া অনকূলে আসার পর নতুন করে কুমড়ার আবাদ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেগুলো পেকে কমলা রঙ ধারণ করার মতো সময় পায়নি।’
মার্কস আরো বলেন, ‘এবার আবহাওয়ার কারণেই বড় আকৃতির কুমড়ার আবাদ হয়নি। কিন্তু বাজারে যেসব কুমড়া আছে, সেগুলো খোদাই করা কিংবা ভেতরে বাতি জ্বালানোর জন্য উপযোগী। শুধু রঙটা পুরোপুরি কমলা হয়ে ওঠেনি।’
শুধু কুমড়া চাষী নন, চলতি বছর সব কৃষককেই কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে। গত শীতে ভারি বৃষ্টিপাতের প্রভাবে ইংল্যান্ডে এ বছর রেকর্ড দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ফসল উৎপাদন হতে যাচ্ছে। গম ও ওটসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফসলের উৎপাদনও এবার অনেক কমে গেছে।
প্রতি মৌসুমে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে ১০ লাখ কুমড়া সরবরাহ করে বারফুটস। জুলিয়ান মার্কস বলেন, ‘চলতি বছর বারফুটসকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হবে। চাহিদা পূরণ করার মতো কুমড়া আছে। কিন্তু এবার কোনো কুমড়া উদ্বৃত্ত থাকবে না। এছাড়া বিশেষ আকারের কুমড়ার ঘাটতি থাকবে।’
যুক্তরাজ্যের কৃষিবিষয়ক দাতব্য প্রতিষ্ঠান দ্য রয়েল হর্টিকালচার সোসাইটির তালিকাভুক্ত কৃষকদেরও একই অবস্থা। ডেভনে অবস্থিত আরএইচএস গার্ডেন রোসেমুরের হর্টিকালচারিস্ট পিটার অ্যাডামস বলেন, ‘এ বছর কুমড়ার আবাদ অন্যান্য বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ কম হয়েছে। এছাড়া কুমড়ার গড় আকৃতিও এবার তুলনামূলক ছোট।’ কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘এবার আলোকস্বল্পতা ছিল, রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া পাওয়া গেছে কম। তাপমাত্রাও ছিল তুলনামূলক কম।’
ব্রিটিশ গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী জ্যাক ওয়ার্ড বলেন, ‘কুমড়ার মৌসুমের শুরুর দিকের বৃষ্টির কারণে অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কুমড়া এ ধরনের আবহাওয়ায় অভ্যস্ত নয়। পোকামাকড়ও একটা বড় সমস্যা। কিন্তু এসব জটিলতা সবার ক্ষেত্রে ছিল না। অনেক কৃষকের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। তবে সার্বিক মূল্যায়ন হলো, এবারের মৌসুমটা পাড়ি দেয়া কঠিন হবে।’
হ্যালোইন যতই এগিয়ে আসছে, কুমড়ার ঘাটতির আশঙ্কা ততই বাড়ছে। যদিও পর্যাপ্ত মজুদ আছে বলে ক্রেতাদের আশ্বস্ত করেছে যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান টেসকো। ক্রেতাদের জায়গা থেকে আরেকটি ইতিবাচক বিষয় হলো, ঘাটতির আশঙ্কা থাকলেও কুমড়ার খুচরা মূল্যে তার প্রভাব নেই। বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকায় দাম এখনো ভোক্তার নাগালেই রয়েছে।